গত কয়েক দশকে লিম্ফোমা বা লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমের ক্যানসারের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, গলা, কোমর বা জোড়া গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া দেখেই মানুষ অতিরিক্ত ভয় পান। তবে এই লক্ষণটি সবসময় ক্যানসারের ইঙ্গিত দেয় না। সাধারণত শরীরে সংক্রমণ, অ্যালার্জি বা ইমিউন সিস্টেমের অন্যান্য সমস্যার কারণেও গ্ল্যান্ড ফুলে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
লিম্ফোমা মূলত রক্তের সাদা কোষের একটি ধরন, যাকে লিম্ফোসাইট বলা হয়, এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট একটি রোগ। এই রোগে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা প্রভাবিত হয়। লিম্ফোমার দুটি প্রধান ধরন রয়েছে, যথা হজকিন্স এবং নন-হজকিন্স লিম্ফোমা। নন-হজকিন্স লিম্ফোমা বেশি দেখা যায় এবং এর লক্ষণগুলো প্রাথমিক ধাপে অন্য রোগের সাথে মিলে যেতে পারে, যা সঠিক চিকিৎসায় বাধা সৃষ্টি করে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিম্ফোমা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ঘাম, ওজন হ্রাস এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বর থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের কাছে যোগাযোগ করা জরুরি। সঠিক সময়ের চিকিৎসা নিলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।