সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন আদালতে মামলার দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা ও তদন্তের ধীরগতির কারণে ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা কমে যাচ্ছে। বিচার বিভাগে জমা হওয়া মামলার সংখ্যা বেড়ে চললেও, রায় পেতে গড় সময়সীমা ১৮ মাসেরও বেশি হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিচার মন্ত্রণালয় ও আইন বিভাগ সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে মামলার নিষ্পত্তি ও তদন্তে দ্রুততা আনা যায়।
এই সমস্যার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে আদালতের অতিরিক্ত কাজের চাপ, মামলার রেকর্ডিং ও প্রমাণ সংগ্রহে প্রযুক্তিগত ঘাটতি, এবং তদন্তকারী দলের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সম্পদের অভাব। এছাড়া, অনেক মামলায় প্রমাণের অনুপস্থিতি ও সাক্ষীর অপ্রাপ্যতা মামলার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময়ের অভাব মামলার সমাধানে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
বিচার বিভাগে প্রধান বিচারপতি ও আইন মন্ত্রী উভয়েই এই সমস্যাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেছেন যে, “ন্যায়বিচার দ্রুত ও সঠিকভাবে প্রদান করা আমাদের রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব।” আইন মন্ত্রীও বলেছেন যে, “প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে মামলার প্রক্রিয়া সহজতর করা সম্ভব।” আদালতের কর্মচারী ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপগুলোকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন যে, পর্যাপ্ত সম্পদ ও প্রশিক্ষণ পেলে মামলার সমাধান দ্রুত হবে।
বর্তমানে সরকার ‘মামলা ব্যবস্থাপনা ও তদন্ত আধুনিকীকরণ প্রকল্প’ চালু করেছে, যার অধীনে আদালতে ইলেকট্রনিক কেস ফাইলিং সিস্টেম স্থাপন, তদন্তকারী দলের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন এবং প্রমাণ সংগ্রহে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া, বিচার বিভাগে ‘মামলা ট্র্যাকিং সিস্টেম’ চালু করে মামলার অগ্রগতি রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে এই পদক্ষেপগুলোকে আরও বিস্তৃত করে বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।