ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বুধবার (২৯ অক্টোবর ২০২৪) টেহরানের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সংলাপ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও ‘পুলিশগিরি’ অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন। রাইসি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া, ইরাক ও লেবাননে চলমান হস্তক্ষেপ অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসন ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করে এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। তিনি এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে, যেখানে বহু দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, প্রকাশ করেন। এই মন্তব্যের পর টেহরানের সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়।
রাইসি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সন্ত্রাসের বাহক’ বলে অভিযুক্ত করে, এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে একত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার ও আঞ্চলিক সংস্থার, না যে বহিরাগত সামরিক শক্তির। রাইসি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি অঞ্চলের জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক পথ ও রাজনৈতিক সমতা নষ্ট করে, যা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই বিষয়টি উত্থাপন করে আন্তর্জাতিক সমর্থন চাওয়ার ইঙ্গিত দেন। রাইসি এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
ইরানের এই অবস্থানকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা অঞ্চলের শক্তি ভারসাম্য পুনর্গঠনের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। কিছু বিশেষজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা ও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন, এবং ইরান-ইরাক সীমানা সংক্রান্ত নিরাপত্তা চুক্তির পুনর্বিবেচনা প্রস্তাব করছেন। তবে রাইসির মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের দপ্তর থেকে কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশিত হয়নি, এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু সদস্য রাষ্ট্রও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
কমেন্ট করুন